চিকিৎসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিকিৎসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮

স্ট্রোক কী? কেন হয়? প্রতিকার ও প্রতিরোধ। -এআরএইচ

প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। 
আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক একটি হৃৎপিন্ডের রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালীর দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। এ দুর্ঘটনায় রক্তনালী বন্ধও হতে পারে, আবার ফেটেও যেতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালীর জটিলতাজনিত রোগ।
স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ ভাগ মারা যায়, আর ৩০ ভাগ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারা বেঁচে থেকেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ কোটি এবং মারা যাচ্ছে ২ কোটি মানুষ। স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি লোক পঙ্গু হচ্ছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক যেমন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা, একই সঙ্গে অনেক মানুষ হারাচ্ছে তাদের কর্মদক্ষতা, হচ্ছে প্রচুর অর্থ ব্যয়। সুতরাং স্ট্রোক জাতীয় ও বিশ্বজনীন সমস্যা। প্রতি ৬ জনে ১ জনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে।

স্ট্রোকে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেই এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী রয়েছে। প্রতি হাজারে গড়ে ৩ থেকে ৫ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা গেলেও যে কোন বয়সেই তা হতে পারে। ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি ১০ বছরে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার কম। ফাস্টফুডে আসক্তদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শিশু ও তরুণদের অনেকে খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্ট্রোক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ হার্ট ফেল কী? কেন হয়? এর লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ। 

স্ট্রোকের ধরণঃ

>ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)
>
হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)


স্ট্রোক কেন হয়? 
অনেক কারণেই স্ট্রোক হয়। যেমন-

১. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ।

২. ধূমপান, তামাক পাতা, জর্দ্দা, মাদক সেবন।
৩. অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি।

৪. অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ।

৫. কিছু কিছু ওষুধ যা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যেমন এ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৬. ঘুমের সময় নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ।

৭. যে কোন ধরনের প্রদাহ অথবা ইনফেকশন ও জন্মগতভাবে ব্রেনে কিংবা মস্তিষ্কে সরু রক্তনালী থাকা।

৮. অনেক সময় বংশানুক্রমে কিংবা পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ও দূরবর্তী রক্তনালী বন্ধ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহঃ


১. শরীরের কোথাও বা একাংশ অবশ ভাব লাগা কিংবা দুর্বলবোধ করা।

২. কথা বলার সমস্যা অর্থাৎ কিছুক্ষণের জন্য কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট হওয়া ও একেবারে কথা বলতে বা বুঝতে না পারা।

৩. এক চোখ বা দুই চোখেই ক্ষণস্থায়ী ঝাপসা দেখা বা একেবারেই না দেখা।
৪. মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঘোলা লাগা, হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহবল হয়ে পড়া, বমি বমি বোধ অথবা বমি করা।

৫. পা দুইটিতে দুর্বল বোধ করা।

৬. স্ট্রোকের মারাত্মক উপসর্গ হচ্ছে অজ্ঞান হওয়া, খিচুনি, তীব্র মাথা ব্যথা ও বমি।

স্ট্রোক হলে কি চিকিৎসা দিতে হবে


১. স্ট্রোক হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যদি খেতে না পারেন তবে নাকে নল দিয়ে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। প্রস্রাব ও পায়খানা যাতে নিয়মিত হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার দিতে হবে। চোখ, মুখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে। বেডসোর প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত পাশ ফেরাতে হবে।

২. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩. পাশাপাশি অনেক স্ট্রোক রোগীর হার্টের রোগ থাকে। এসব ক্ষেত্রে কারডিওলজিস্টের পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

৪. অন্যান্য চিকিৎসা স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী করা হয়। যেমনÑ ইশকেমিক স্ট্রোকের বেলায় এসপিরিন, ক্লোপিডগ্রিল জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।

৫. সকল হাসপাতালেই থাকা উচিত একটি স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, যেখানে ডাক্তার, নার্স, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমম্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা দেবেন।

৬. একজন স্ট্রোক রোগীর প্রয়োজন হয় নিউরোলজিস্ট এবং নিউরোসার্জনের। অনেক স্ট্রোক রোগীর অপারেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৭. অনেক রোগীর শ্বাসকষ্ট, বেডসোর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং রেসপিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট, প্লাস্টিক সার্জনসহ সবার সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।
৮. রোগীর অঙ্গ সঞ্চালন করে জড়তা কাটিয়ে তুলতে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন হয়।

৯. রোগী কথা বলতে না পারলে প্রয়োজন স্পিচ থেরাপিস্টের।

১০. স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, সমম্বিত স্ট্রোক কেয়ার টিমের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসায় আসবে সুফল, রোগী ও রোগীর স্বজন হবেন চিন্তামুক্ত, রোগী লাভ করবে আরোগ্য।

কিভাবে আমরা এই ভয়াল দানবকে রুখে দাঁড়াতে পারি? যেভাবে প্রতিরোধ সম্ভব


‘স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ।’ স্ট্রোক ব্রেন বা মস্তিষ্কের কঠিন রোগ। ব্রেনের কোষগুলো একবার নষ্ট হলে পুনরায় পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় না অথবা জন্মায় না। ‘চিকিৎসার চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধই উত্তম।’ এই রোগ মস্তিষ্কের রক্তনালী থেকে উদ্ভূত হয়। স্ট্রোক হলে অনেক সময় রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট ও জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরে যে কোন হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

১. নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. ধূমপান, মদ্যপান, মাদক দ্রব্য, তামাক পাতা ও জর্দ্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. হৃৎপি-ের রোগের চিকিৎসা, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪. চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফাস্টফুড, বাদাম, সন্দেশ-রসগোল্লা, দুধ-ঘি-পোলাও-বিরিয়ানি, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া, গরু বা খাসির মাংস, নারিকেল বা নারিকেলযুক্ত খাবার ইত্যাদি কম খাওয়া উচিত।

৫. শাক-সবজি, অল্প ভাত, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া বাদে যে কোন মাছ, বাচ্চা মুরগি ও ডিম খেলে কোন ক্ষতি হয় না।

৬. নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বাড়তি ওজন কমাতে হবে।

স্ট্রোক অবশ্যই একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। আক্রান্ত রোগী নিজে মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, পরিবারের জন্য অনেক সময় বোঝা হয়ে দাঁড়ান। তাই প্রতিরোধ করাই সর্বোত্তম।

লেখক : অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

ডিন, মেডিসিন অনুষদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ ও উইকিপিডিয়া

বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

জেনে নিন হার্ট অ্যাটাক কী? হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, করণীয় ও প্রতিরোধ। -এআরএইচ

হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) কী? হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, করণীয়, প্রতিরোধ। 


পর্যাপ্ত অক্সিজেন -সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহের অভাবে কার্ডিয়াক পেশির ধ্বংস বা মরে যাওয়াকে হার্ট অ্যাটাক বলে। করোনারি ধমনির অন্তর্গাত্রে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল জমে ধমনির অন্তঃস্থ গহ্বর বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপেশিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে হৃৎপেশি ধ্বংস বা মরে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হার্ট অ্যাটাকের অপর নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন (Myocardial Infraction)

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণঃ
করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল জাতীয় পদার্থ জমা হওয়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে পরিসমাপ্তি হওয়া পর্যন্ত অনেক দিন অতিবাহিত হয়। এ সময়ের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে নিম্নবর্ণিত লক্ষণগুলো বেশি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়।
বুকে অস্বস্তিঃ বুকের ঠিক মাঝখানে অস্বস্তি হওয়া যা কয়েক মিনিট থাকে, চলে যায় আবার ফিরে আসে। বুকে অসহ্য চাপ, মোচড়ান, আছড়ান বা ব্যথা অনুভূত হয়।

ঊর্ধ্বাঙ্গের অন্যান্য অংশে অস্বস্তিঃ এক বা উভয় বাহু, পিঠ, গলা, চোয়াল বা পাকস্থলির উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব।

ঘন ঘন নিঃশ্বাস -প্রশ্বাসঃ
বুকে অস্বস্তির সময় ঘন ঘন নিঃশ্বাস -প্রশ্বাস ঘটে। অনেক সময় বুকে অস্বস্তি হওয়ার আগেও এমন অবস্থা দেখা দিতাম পারে।

বমি -বমি ভাবঃ পাকস্থলিতে অস্বস্তির সাথে বমি -বমি ভাব, বমি হওয়া, হঠাৎ মাথা ঝিমঝিম করা অথবা ঠাণ্ডা ঘাম বেরিয়ে যাওয়া।

ঘুমে ব্যাঘাতঃ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা, নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্ত মনে হওয়া।
উল্লেখিত লক্ষণগুলোর দু একটি সবার মধ্যেই দেখা যায়। তার অর্থ এই নয় যে, সবাই হার্টা অ্যাটাকে আক্রান্ত। একই লক্ষণ সবার মধ্যে দেখা যায় না, শারীরিক গড়ন, বয়সভেদে লক্ষণের হেরফের হয়। তবে লক্ষণগেলো তাদের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যারা -
উচ্চ রক্ত চাপের রোগী, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল সম্পন্ন, ধূমপায়ী, ডায়াবেটিক রোগী, কম শারীরিক প্ররিশ্রমকারী, স্যাচুরেটেড চর্বি, কোলেস্টেরল ও সোডিয়াযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণকারী, অতি ওজন ও স্থূলতা সম্পন্ন, ৪৫ বছর বয়স্ক পুরুষ বা ৫৫ বছর বয়স্ক নারী ইত্যাদি।

হার্ট অ্যাটাকে করণীয়ঃ
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও উপসর্গের প্রকাশ ঘটে খুব তাড়াতাড়ি। তবে কখনওবা কয়েক ঘন্টা, কয়েকদিন বা সপ্তাহ লেগে যায়।
লক্ষণের ধরণগুলো জানা না থাকলে নিজে বা কারও সাহায্য নিয়ে দ্রুত হৃৎচিকিৎসকের কাছে পৌছাতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সাহায্য পাওয়া যাবে, হৃৎপিণ্ডের ক্ষতিও হবার তত কম। লক্ষণ -উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস ও চেকআপের ফলাফল দেখে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। হৃৎরোগীদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি। 

প্রতিরোধঃ 
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য -পানীয় প্রয়োজন। ঋতুকালীন টাটকা ফল ও সবজি খেতে হবে। চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। বডি মাস ইন্ডেক্স (Body Mass Index, BMI) মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। সঠিক ওজন, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম যেমন প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটা ইত্যাদি নিয়মিত করতে হবে। ধূমপায়ী হলে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। অধূমপায়ী হলে ধূমপান না করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। শুধু হৃৎরোগ নয়, অনেক অসুখের মূলে রয়েছে অ্যালকোহল গ্রহণ। জীবনাভ্যাসে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ রাখতে হবে। কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হেব বা বন্ধ. করতে হবে। বছরে অন্তত একবার (সম্ভব হলে দুবার) সমগ্র দেহ চেকআপের ব্যবস্থা করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭

মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) টাকায় টাক সমস্যার সমাধান। -ARH

মাত্র ৫০ (পঞ্চাশ) টাকায় টাক সমস্যার সমাধান। 

প্রথমেই টাক (ইংরেজি: Baldness) সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক। টাক  বলতে চুলের অভাবকে বোঝায়, বিশেষ করে মাথার চুল। মাথার চুল ক্রমাগত হালকা হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সাধারণত টাক হওয়া প্রকাশ পায়। পুরুষের ক্ষেত্রে এটি অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া বা "পুরুষের টাক" নামে পরিচিত। এটি পরিণত মানুষ ও অন্যান্য প্রজাতিতে দেখা যায়। টাকের পরিমাণ ও বিস্তৃতি অনেক বেশি হতে পারে এবং এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। মাথার কিছু অংশের চুল পড়ে যাওয়াকেঅ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা ও পুরো মাথার চুল পড়ে যাওয়াকে অ্যালোপেসিয়া টোটালিস বলে। চুল পড়ে যাওয়ার আরো একটি মারাত্মক প্রকাশ হচ্ছেঅ্যালোপেসিয়া ইউনিভার্সালিস। এক্ষেত্রে মাথাসহ সমস্ত শরীরের লোম ঝরে যায়।

টাক বা চুল পরে যাওয়ার পিছনে জিন দায়ী। এটি বংশগত। অর্থাৎ বংশে যদি কারো টাক থাকে তাহলে এটিকে এড়িয়ে যাবার কোনও সুযোগ নেই।

বর্তমানে অনেক পাইকারি চিকিৎসক বলছে টাক সমাধান করে মাথায় চুল গজানো  যায় খুব সহজেই। এটি একেবারে মিথ্যা কারণ সহজ ভাবে এই সমস্যার সমাধানে নতুন করে চুল গজানোর কাজটি  করা সম্ভব নয় এই জন্যে যে এটি জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রত। 

তবে খুব সহজেই মাত্র ৫ মিনিটে এবং ২০ -৫০ টাকায় টাক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। চিন্তা করছেন কিভাবে? তাহলে বলছি, বাজারে গিয়ে একটি টুপি কিনুন আর মাথায় পরে নিন। ব্যাস হয়ে গেল সমাধান। আপনার টাক আর দেখা যাবে না। অল্প সময়ে অল্প টাকায় টাক সমস্যার সমাধান পেয়ে গেলেন।

উপকারিতাঃ
১। টুপি পরার কারণে একটি সুন্নত আদায় হল।
২। এর ফলে আপনি সওয়াবের অধীকারী হলেন।
৩। যারা সুন্নত আদায় করে তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সাথে জান্নাতে থাকবে।
৪। লোকের নিন্দা থেকে বাচা যাবে।
৫। সবশেষে বউয়ের কথা শুনতে হবে না।


তাহলে আর দেরী কেন? যাদের টাক আছে আজই টুপি লাগিয়ে টাক সমস্যার সমাধান করে নিন। 

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

জেনে নিন হার্ট ফেলের কারণ ও এর থেকে বাঁচার উপায়। -এআরএইচ

Heart Failure
হার্ট ফেউলিউর 


হৃৎপিণ্ড যখন দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্তের যোগান দিতে পারে না তখন এ অবস্থাকে হার্ট ফেইলিউর বলে। অনেক সময় হৃৎপিণ্ড রক্তে পরিপূর্ণ না হতে পারায়, কখনওবা হৃৎপ্রাচীরের যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এমনটি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উভয় সমস্যাই একসঙ্গে দেখা যায়। অতএব হার্ট ফেইলিউর মানে হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে বা থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তা নয়। তবে হার্ট ফেইলিউরকে হৃৎপিণ্ডের একটি মারাত্মক অবস্থা বিবেচনা করে সুচিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। 

হার্ট ফেইলিউরের কারণঃ

করোনারি ধমনির অন্তঃস্থ গাত্রে কোলেস্টেরল জমে ধমনির গহ্বর সংকীর্ণ করে দিলে হৃৎপ্রাচীর পযার্প্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়। কালান্তরে হার্ট ফেইলিউর ঘটে। উচ্চ রক্তচাপ বেশি দিন স্থায়ী হলে ধমনির অন্তঃস্থ প্রাচীরের কোলেস্টেরল জমার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ফলে রক্ত চলাকালে বাধাগ্রস্ত হয় এবং হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস হলে দেহ পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন বা সঠিক ভাবে ব্যবহারও করতে পারে না। এ কারণে ধীরে ধীরে হৃৎপেশি ও হৃৎপিণ্ডের বাটিকাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে হার্ট ফেইলিউর ঘটে। হৃৎপিণ্ড জন্মগত বা সংক্রমণজনিত কারণে হার্ট ফেইলিউর ঘটতে পারে।

হার্ট ফেইলিউরের কারণঃ

  • সক্রিয়, নিষ্ক্রিয় এমনকি ঘুমের মধ্যেও শ্বাসকষ্টে ভোগা এবং ঘুমের সময় মাথার নিচে দুটি বালিশ না দিলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
  • সাদা বা গোলাপি রঙের রক্তমাখা মিউকাসসহ স্থায়ী কাশি বা ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস-প্রশ্বাস।
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টিস্যুতে তরল জমে ফুলে উঠে।
  • পাকস্থলী সব সময় ভরা মনে হয় কিংবা বমি ভাব থাকে।
  • কাজ -কর্ম, চলনে অসামঞ্জস্য এব স্মৃতিহীনতা প্রকাশ পায়।
  • হৃৎস্পন্দন এত দ্রুত হয় মনে হবে যেন হৃৎপিণ্ড এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
হার্ট ফেইলিউরের প্রতিকার
  1. জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তনঃ স্বাস্থ্যসম্মত আহার হচ্ছে রোগীদের প্রধান অবলম্বন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা দেখে নিয়মিত সুষম পানাহার করা উচিত।
  2. ঔষধ গ্রহণঃ হার্ট ফেইলিউরের ধরন দেখে চিকিৎসক যে সব ঔষধ নির্বাচিত করবেন নিয়মিত তা সেবন করতে হবে এবং নিষিদ্ধ সময় পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে।
  3. অন্যান্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াঃ হার্ট ফেইলিউর যেন খারাপের দিকে মোড় না নেয় সেদিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন শারীরিক অব্যাবস্থাপনা সারিয়ে তুলতে হবে বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। 

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...