স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্বাস্থ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯

স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া বা চুলকানি হলে কী করবেন? - এআরএইচ

স্ক্যাবিস বা খোসর্পাঁচড়া বা চুলকানি হলে কী করবেন? 
প্রথমেই জেনে নেই স্ক্যাবিস কী? স্ক্যাবিস হলো একপ্রকার চর্মজনিত রোগ। যা একটি জীবাণু আক্রমণ করে। জীবাণুটির নাম Sarcoptes scabei ‍।  এই জীবাণু মানুষের শরীরে আক্রমণ করলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চুলকানি হয় এবং র‌্যাশ উঠতে দেখা যায়।

স্ক্যাবিস এর লক্ষণ: 
স্ক্যাবিস এর প্রধান লক্ষণ চুলকানি ।সাধারণত হাতের আঙ্গুলের ফাকে, বগলে, ত্বকের ভাঁজে, পায়ে আবার অনেকের পেনিসেও হয়। এই চুলকানি সাধারণত দিনে কম থাকে এবং রাতের বেলা প্রচুর চুলকায়। স্ক্যাবিসের আরেকটি লক্ষণ চুলকালে মজা লাগে। চুলকানির সাথে সাথে শরীরে র‌্যাশ দেখা যায়।

চিকিৎসা: 
স্ক্যাবিসের চিকিৎসা দুইভাবে করা যায় 
১.ঘরোয়া ভাবে।
২.এলোপ্যাথিক চিকিৎসা করে।

১. ঘরোয়া ভাবে।
স্ক্যাবিসের জন্য দারুণভাবে কাজ করে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ।
স্ক্যাবিস হলে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে শরীরে মাখতে হবে  এবং পরে গোসল করতে হবে। এছাড়ও নিমপাতা বেটে সেগুলো গোলকরে রোদ্রে শুকিয়ে প্রতিদিন খেলেও বেশ উপকার পাওয়া যায় এবং নিয়মিত করলে কয়েকদিনের মধ্যেই স্ক্যাবিস শেষ হয়ে যায়।

২. এলোপ্যাথিক :
এলোপ্যাথিক চিকিৎসা করেও স্ক্যাবিস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে মারমিথ্রিন বিপি ৫% এবং ক্রোটামিন বিপি ১০% লোশন ব্যাবহার করতে হবে। যার বাজার নাম ইলিমেট প্লাস লোশন। এটি রাতে ব্যবহার করতে হবে। 

ব্যবহারের নিয়ম: যেহেতু স্ক্যাবিস ছোয়াছে রোগ তাই এটি পরিবারে সকলের ব্যবহার করা উচিত। যাতে করে ভবিষতে আর ফিরে না আসতে পারে । ইলিমেট প্লাস লোশন রাতে এবং সারা শরীরে ব্যবহার করতে হবে। শুধুমাত্র মাথা ও মুখমন্ডল ছাড়া গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত এটি মাখতে হবে। আর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ব্যবহারেব পর পানি দিয়ে ধুয়ে না যায় । ব্যবহারের পর ১০-১২ ঘন্টা পর গোসল করতে হবে। বেশি হলে ৭ দিন পর আবার  একই নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। 

আর ব্যবহৃত সকল পোশাক , বিছানার চাদর ইত্যাদি কমপক্ষে ৫০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ধুতে হবে।

এছাড়াও ঔষধ হিসেবে এলাট্রল ১০ এমজি বা ফেক্স ১২০ এমজি গ্রহণ করা যেতে পারে । তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে গ্রহণ করা উচিত।

স্ক্যাবিস প্রতিরোধের উপায়: সাধারণ নোংরা পরিবেশে থাকলে এটি বেশি হয়। তাই পরিষ্কার পরিবেশে এবং নিজে সব সময় পরিচ্ছন্ন থাকলেই এটি এড়ানো সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯

প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পানি পান করা ক্ষতিকর দিক। -এআরএইচ

প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করার ক্ষতিকর দিক। 

প্রচন্ড গরমে বা গরমে শরীরে অনেক ঘাম হয় ফলে সহজেই পানি পিপাসা লাগে সাথে ক্লান্তি তাই এসময় চাই সুপেয় পানি। আর যদি সেই পানি হয় ঠান্ডা তাহলে তো আর কথাই নেই, যেন সোনায় সোহাগা। কিন্তু আপনি কী জানেন যে আপনার এই ঠান্ডা পানি পান করার কারণে শরীরের কী কী সব মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে? আসুন জেনে নেই সমস্যা গুলো।

হার্ট এর সমস্যাঃ ঠান্ডা পানি পানের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় হার্টের। গরম থেকে এসেই ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের শিরা উপশিরা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন করতে হার্টের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই বাড়তি চাপ হার্টের জন্য একেবারেই ভালো না। সাথে সাথেই কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে জটিল হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

জ্বর হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে: আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কিন্তু ঠান্ডা পানি পান করলে আমাদের রক্ত হঠাৎ করেই শীতল হয়ে যায়। ফলে শরীরে ভেতরের অংশে হঠাৎ করেই অনাহুত অস্বস্তি দেখা দেয়। এধরনের অস্বস্তি জ্বরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়।

শরীরে পর্যাপ্ত পানির চাহিদা পূরণ হয় না: ঠাণ্ডা পানিতে ত্ষ্ণা মেটে চট করে, তৃপ্তি চলে আসে তাড়াতাড়ি। ফলে শরীর মনে করে তার আর পানি পানের প্রয়োজন নেই।ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটে না। এ ঘাটতি থেকে পানিশূন্যতা তৈরি হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

টনসিলের সমস্যা হতে পারেঃ ঠান্ডা পানিতে সহজে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে ফলে টনসিল ফুলে গিয়ে সমস্যা হতে পারে।

খনিজের অনুপস্থিতিঃ সাধারণ পানি স্বাভাবিক অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদানে পূর্ণ থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। কিন্তু পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে এসব খনিজ উপাদানের কার্যকারিতা কমে যায়। তখন শরীরের জন্য এরা আর কোনো কাজ করতে পারে না। ফলে পানি থেকে শরীরের যে খনিজের চাহিদা পূরণ হয় সেটা অপূর্ণই থেকে যায়।

ঠান্ডা পানিতে হজমের সমস্যা হয়ঃ ঠান্ডা পানি পান করার ফলে পাকস্থলী খাবার হজমের চাইতে ঠান্ডা পানিকে শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পাকস্থলীর যে মূল দায়িত্ব সেই খাবার হজমের প্রক্রিয়ায় ছেদ পড়ে, হজমে সমস্যা দেখা দেয়।

শরীরের শক্তি ক্ষয় করেঃ আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রায় ৯৮.৬  ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাই ঠান্ডা পানি যখন পাকস্থলীতে জমা হয় তখন পাকস্থলী তা শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসে।ফলে শরীরের অহেতুক শক্তি খরচ হয়।

ব্যায়ামের পরে ঠান্ডা পানি ক্ষতিকরঃ ব্যায়ামের পরে কক্ষতাপমাত্রা বা তার চেয়ে গরম পানি খাওয়া ভাল। কারণ ঠান্ডা পানি খেলে তা শরীরে দ্রুত শোষিত হয়। ফলে শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হয় না।

দাঁতের ক্ষতি হয়: ঠান্ডা পানি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে মারাত্মক ভাবে।গরম থেকে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসা মাত্রই দাঁতের বহিরাবরণ সংকুচিত হয়। ফলে এনামেলে ফাটল ধরে। এছাড়া মাড়ি ক্ষয়ের অন্যতম একটি কারণও ঠান্ডা পানি।

গর্ভপাতের সম্ভাবনাঃ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঠান্ডা পানি পান করার ফলে জরায়ুর সঙ্কোচন হয়। গর্ভাবস্থায় এধরনের সঙ্কোচন গর্ভপাতের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

বৈদ্যুতিক শক লাগলে যা যা করণীয়। - এআরএইচ

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক লাগলে আমাদের করণীয়।

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক বলতে শরীরের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অণুভুতিকে বুঝায় । শরীরের ভিতর দিয়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই কেবল শক লাগে । অতি অল্প পরিমাণ প্রবাহ কোন অনুভূতি সৃষ্টি না করতে পারলেও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে । ইলেকট্রিক শক লাগার জন্য সর্বনিম্ন যে বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োজন তা নির্ভর করে বিদ্যুতের ধরন এবং কম্পাঙ্কের উপর । শরীরের ভিতর দিয়ে 6০/50 হার্জ কম্পাঙ্কের AC বিদ্যুৎ প্রবাহ ১ মিলিএম্পিয়ার (RMS) হলেই একজন ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারেন, কিন্তু DC হলে কমপক্ষে ৫ মিলিএম্পিয়ার লাগে অনুভূতি সৃষ্টি করতে । বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে দেহের রোধের জন্য তাপ উৎপন্ন হয় । এই তাপ দেহের বাইরের বা ভিতরের অংশ পুড়ে ফেলতে সক্ষম । ৪ এম্পিয়ারের বেশি প্রবাহ টিস্যু পুড়ে ফেলে, হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায় এবং মৃত্যু হতে পারে ।




কারো বৈদ্যুতিক শক লাগলে বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের করণীয়গুলো কি? চলুন সংক্ষেপে তা জেনে নিই-

কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে করণীয়ঃ 
  1. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে হাত দেওয়া যাবে না।
  2. বৈদ্যুতিক সুইচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে।
  3. সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা রাবার দিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক উৎস থেকে ধাক্কা দিয়ে আলাদা করতে হবে।
  4. ধাক্কা দেওয়া এবং সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিতে হবে।
  5. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে কখনোই পানি দেওয়া যাবে না
  6. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গলা, বুক ও কোমরের কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।
  7. আহিত ব্যক্তিকে খালি গায়ে মাটিতে শুয়ে দিতে হবে যাতে করে শরীরে যতটুকু বিদ্যুৎ আছে তা মাটিতে চলে যেতে পারে। 
  8. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে মনে হলে দ্রুত তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিতে হবে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে সিপিআর (CPR)। 
  9. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্ততপক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হয় ততক্ষণ এটা করতে হবে।
  10. রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯

পাকস্থলী বা অন্ত্র নিজে হজম হয় না কেন? -এআরএইচ

পাকস্থলী বা অন্ত্র নিজে হজম হয় না কেন? 
Why the stomach or intestine itself is not being digested?

পাকস্থলী এবং অগ্নাশয়ের অসংখ্য সোনালি গ্রন্থি প্রোটিয়েজ (protease - আমিষ খাদ্য হজমের এনজাইমকে প্রোটিয়েজ বলে। যেমনঃ পেপসিন, ট্রিপসিন এক একটি প্রোটিয়েজ) এনজাইম তৈরি করে। প্রোটিয়েজ দ্বারা পাকস্থলী বা অন্ত্রের লুমেনে আমিষ পরিপাক হলেও এ সকল প্রোটিয়েজ সৃষ্টিকারী গ্রন্থিকোষগুলো প্রোটিন দ্বারা গঠিত হওয়া সত্ত্বেও কয়েকটি কারণে নিজেরা পরিপাক হয় না।
প্রথমতঃ প্রোটিয়েজ গুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ক্ষারিত হয়। যেমনঃ পাকস্থলী প্রাচীরের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে পেপসিন নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন হিসেবে ক্ষারিত হয় এবং HCl এসিডের সংস্পর্শে না আসা পর্যন্ত সক্রিয় হয় না। একইভাবে অগ্নাশয়ের পরিপাক গ্রন্থি, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই ট্রিপসিনোজেন হিসেবে ক্ষরিত হয়ে ড্যুওডেনাম প্রাচীর এন্টারোকাইনেজ এনজাইম দ্বারা সক্রিয় হয়। ফলে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই এনজাইমগুলো পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীরকে হজম করতে পারে না। পাকস্থলী প্রতি মিনিটে প্রায় পাঁচ লক্ষ কোষ মোচন করে এবং প্রতি তিন দিনে সম্পূর্ণভাবে নবায়িত হয়।
দ্বিতীয়তঃ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রাচীরের কিছু কোষ ও লালাগ্রন্থি মিউকাস উৎপন্ন করে। মিউসিন নামক একটি প্রোটিন মিউকাসের প্রধান উপাদান। পাকস্থলী ও অন্ত্র প্রাচীরের ভিতরের গাত্র সব সময় মিউকাসের গাঢ় আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। মিউকাসের খ আবরণের জন্যই আমিষ হজমকারী এনজাইমসমূহ পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীর কোষের সংস্পর্শে আসতে পারে না বলে এরা এই সকল অঙ্গের কোনো  ক্ষতিও করতে পারে না।
তৃতীয়তঃ কোষে কোন এন্টিএনজাইম থাকার সম্ভাবনা আছে যার জন্য এনজাইমগুলো পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীরে অবস্থিত সজীব কোষের উপর ক্রিয়া করতে পারে না।
চতুর্থতঃ পাকস্থলী কোষ প্রোস্ট্রাগ্লান্ডিনের উচ্চ মাত্রা ধারণ করে যা পাকস্থলী দ্বারা সৃষ্ট এসিড - নিউ্রেলাইজিং কার্বোহাইড্রেট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়।
কখনো কখনো গ্যাস্ট্রিক মিউকোসার এই সংরক্ষণ মূলক মিউকাস আবরণ পেপসিন এনজাইম এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিডের কার্যকারিতায় কোথাও কোথাও নষ্ট হয়ে যায়। এর সাথে Helicobacter pylori  নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে মাএই ব্যাকটেরিয়া যে টক্সিন ক্ষরণ করে তা পাকস্র অন্তর্গাত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহই হলো আলসার বা ক্ষত সৃষ্টি করে। এই ধরনের আলসার বা ক্ষতকে পেপটিক আলসার বলে। আলসার পাকস্থলীতে হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ড্যুওডেনামে হলে ড্যুওডেনাল আলসার বলা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

যে একটি ভুলের কারণে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। - এআরএইচ

যে একটি ভুলের কারণে আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। 

একটু পিছন ফিরে তাকাতে চাই, আজ থেকে বেশ কিছু বছর আগের কথা যদি চিন্তা করি অর্থাৎ ধরুন ৩০ বছর আগে। চিন্তা করুন তখনকার সময় আজ যেমন শুনা যাচ্ছে স্ট্রোকের এত কথা, এত ভয়াবহতা কিংবা এটি আক্রমণ করছে যেকাউকেই। তখন কী এতটা ঝুঁকি ছিল? অর্থাৎ আলোচ্য ভুলের পরিমাণ কম ছিল। 


কখনো চিন্তা করেছেন আপনি আপনার ভুল কাজের দ্বারা এই মারাত্মক ঝুঁকি আপনার জীবনে টেনে আনছেন? চিন্তায় পরলেন? আসলে মানুষ অনেক অলস সবকিছু সহজভাবে পাবার প্রচেষ্টায় থাকাই যেন তার স্বাভাবিক ধর্ম। পরিশ্রম করতে হবে এমন ধারণা এখন আর মানুষের মৌন কুটিরে উকি দেয় না, সবার বাসনা একটাই আরাম - আয়েশের জীবন চাই।

যাই হোক, প্রসঙ্গে আসি। আপনাকে যদি প্রশ্ন করি যদি 'আপনি কিভাবে গোসল করেন? আপনার উত্তর হবে নিশ্চয়ই আপনি শাওয়ার করেন। কিংবা বালতিতে পানি নিয়ে মগদিয়ে গোসল করছেন। কিসে, কোথায়, কী দিয়ে গোসল করছেন আমার আলোচ্য বিষয় তা নয়, আমার আলোচ্য বিষয় হলো আপনি কিভাবে গোসল করছেন?

গোসল করার নিয়ম আপনি আপনার পা থেকে আস্তে আস্তে উপরের দিকে ভেজাতে থাকবেন অর্থাৎ প্রথমেই মাথায় পানি দিবেন না কিন্তু দেয়া যায় প্রথমেই মাথায় পানি দেয়া হচ্ছে। আর এতেই বেড়ে যাচ্ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। যা একটি মারাত্মক ভুল। 

কিভাবে বাড়ছে এই ঝুঁকি? যখন প্রথমেই পানি মাথায় দেয়া হয় তখন পানির কারণে মাথার তাপমাত্রা সারা শরীরের থেকে কিছুটা কমে যায় ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্ত দ্রুত মস্তিষ্কে ধাবিত হয় এবং মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে আর এভাবেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

তাই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে গোসল করুন ভুল পরিহার করুন স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। 

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮

স্ট্রোক কী? কেন হয়? প্রতিকার ও প্রতিরোধ। -এআরএইচ

প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। 
আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক একটি হৃৎপিন্ডের রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালীর দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। এ দুর্ঘটনায় রক্তনালী বন্ধও হতে পারে, আবার ফেটেও যেতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালীর জটিলতাজনিত রোগ।
স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ ভাগ মারা যায়, আর ৩০ ভাগ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারা বেঁচে থেকেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ কোটি এবং মারা যাচ্ছে ২ কোটি মানুষ। স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি লোক পঙ্গু হচ্ছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক যেমন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা, একই সঙ্গে অনেক মানুষ হারাচ্ছে তাদের কর্মদক্ষতা, হচ্ছে প্রচুর অর্থ ব্যয়। সুতরাং স্ট্রোক জাতীয় ও বিশ্বজনীন সমস্যা। প্রতি ৬ জনে ১ জনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে।

স্ট্রোকে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেই এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী রয়েছে। প্রতি হাজারে গড়ে ৩ থেকে ৫ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা গেলেও যে কোন বয়সেই তা হতে পারে। ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি ১০ বছরে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার কম। ফাস্টফুডে আসক্তদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শিশু ও তরুণদের অনেকে খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্ট্রোক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ হার্ট ফেল কী? কেন হয়? এর লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ। 

স্ট্রোকের ধরণঃ

>ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)
>
হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)


স্ট্রোক কেন হয়? 
অনেক কারণেই স্ট্রোক হয়। যেমন-

১. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ।

২. ধূমপান, তামাক পাতা, জর্দ্দা, মাদক সেবন।
৩. অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি।

৪. অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ।

৫. কিছু কিছু ওষুধ যা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যেমন এ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৬. ঘুমের সময় নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ।

৭. যে কোন ধরনের প্রদাহ অথবা ইনফেকশন ও জন্মগতভাবে ব্রেনে কিংবা মস্তিষ্কে সরু রক্তনালী থাকা।

৮. অনেক সময় বংশানুক্রমে কিংবা পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ও দূরবর্তী রক্তনালী বন্ধ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহঃ


১. শরীরের কোথাও বা একাংশ অবশ ভাব লাগা কিংবা দুর্বলবোধ করা।

২. কথা বলার সমস্যা অর্থাৎ কিছুক্ষণের জন্য কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট হওয়া ও একেবারে কথা বলতে বা বুঝতে না পারা।

৩. এক চোখ বা দুই চোখেই ক্ষণস্থায়ী ঝাপসা দেখা বা একেবারেই না দেখা।
৪. মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঘোলা লাগা, হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহবল হয়ে পড়া, বমি বমি বোধ অথবা বমি করা।

৫. পা দুইটিতে দুর্বল বোধ করা।

৬. স্ট্রোকের মারাত্মক উপসর্গ হচ্ছে অজ্ঞান হওয়া, খিচুনি, তীব্র মাথা ব্যথা ও বমি।

স্ট্রোক হলে কি চিকিৎসা দিতে হবে


১. স্ট্রোক হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যদি খেতে না পারেন তবে নাকে নল দিয়ে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। প্রস্রাব ও পায়খানা যাতে নিয়মিত হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার দিতে হবে। চোখ, মুখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে। বেডসোর প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত পাশ ফেরাতে হবে।

২. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩. পাশাপাশি অনেক স্ট্রোক রোগীর হার্টের রোগ থাকে। এসব ক্ষেত্রে কারডিওলজিস্টের পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

৪. অন্যান্য চিকিৎসা স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী করা হয়। যেমনÑ ইশকেমিক স্ট্রোকের বেলায় এসপিরিন, ক্লোপিডগ্রিল জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।

৫. সকল হাসপাতালেই থাকা উচিত একটি স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, যেখানে ডাক্তার, নার্স, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমম্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা দেবেন।

৬. একজন স্ট্রোক রোগীর প্রয়োজন হয় নিউরোলজিস্ট এবং নিউরোসার্জনের। অনেক স্ট্রোক রোগীর অপারেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৭. অনেক রোগীর শ্বাসকষ্ট, বেডসোর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং রেসপিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট, প্লাস্টিক সার্জনসহ সবার সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।
৮. রোগীর অঙ্গ সঞ্চালন করে জড়তা কাটিয়ে তুলতে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন হয়।

৯. রোগী কথা বলতে না পারলে প্রয়োজন স্পিচ থেরাপিস্টের।

১০. স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, সমম্বিত স্ট্রোক কেয়ার টিমের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসায় আসবে সুফল, রোগী ও রোগীর স্বজন হবেন চিন্তামুক্ত, রোগী লাভ করবে আরোগ্য।

কিভাবে আমরা এই ভয়াল দানবকে রুখে দাঁড়াতে পারি? যেভাবে প্রতিরোধ সম্ভব


‘স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ।’ স্ট্রোক ব্রেন বা মস্তিষ্কের কঠিন রোগ। ব্রেনের কোষগুলো একবার নষ্ট হলে পুনরায় পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় না অথবা জন্মায় না। ‘চিকিৎসার চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধই উত্তম।’ এই রোগ মস্তিষ্কের রক্তনালী থেকে উদ্ভূত হয়। স্ট্রোক হলে অনেক সময় রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট ও জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরে যে কোন হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

১. নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. ধূমপান, মদ্যপান, মাদক দ্রব্য, তামাক পাতা ও জর্দ্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. হৃৎপি-ের রোগের চিকিৎসা, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪. চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফাস্টফুড, বাদাম, সন্দেশ-রসগোল্লা, দুধ-ঘি-পোলাও-বিরিয়ানি, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া, গরু বা খাসির মাংস, নারিকেল বা নারিকেলযুক্ত খাবার ইত্যাদি কম খাওয়া উচিত।

৫. শাক-সবজি, অল্প ভাত, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া বাদে যে কোন মাছ, বাচ্চা মুরগি ও ডিম খেলে কোন ক্ষতি হয় না।

৬. নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বাড়তি ওজন কমাতে হবে।

স্ট্রোক অবশ্যই একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। আক্রান্ত রোগী নিজে মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, পরিবারের জন্য অনেক সময় বোঝা হয়ে দাঁড়ান। তাই প্রতিরোধ করাই সর্বোত্তম।

লেখক : অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

ডিন, মেডিসিন অনুষদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ ও উইকিপিডিয়া

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৮

ধূমপানের উপকারিতা। -এআরএইচ

ধূমপানের উপকারিতা। 


প্রত্যেক বস্তুরই ভাল মন্দ দুটি বিষয় আছে। নিউটনের ৩য় সূত্রের মত "When one body exerts a force on a second body, the second body simultaneously exerts a force equal in magnitude and opposite in direction on the first body.

"প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে"।

ধূমপান করলে যেমন অপকার হয় তেমনি উপকারও হয়।
এ বিষয়ে অন্যতম মুসলিম বিজ্ঞানী ও গবেষক, আধ্যাত্মিক মহাসাধক, কুতুব-উল-আকতাব অধ্যাপক (অব) আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আযহারুল ইসলাম সিদ্দিকী সাহেব (রঃ)
বি.এ. (অনার্স) এম.এ, এফ.এম, এলএলবি (ঢাবি) পীর সাহেব মানিকগঞ্জ। তার লিখিত "ধূম পিপাসা সর্বনাশা" কিতাবে লিখেন "যে কোনো জিনিসের ভাল মন্দ দুটো দিক আছে। ধূমপানেরও উপকারিতা আছে। নিয়মিত ধূমপান করলে শেষ রাত্রিতে চোরের উপদ্রব থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যায়। ধূমপানের ফলে কফ, কাশ দোস্ত হয় এবং রাতের বেলা কাশতে কাশতে জেগে থাকতে হয়। তাছাড়া চোখ, মুখ ঠেলার চোটে মুখমণ্ডলর ফ্যাকাসে হয়ে যায় এবং চোখ ঠিকরে বেরিয়ে যায় কাশতে কাশতে। চোরেরা আড়াল থেকে এই চেহারা দেখে ভয়ে পালায় বরং চুরির সময় সুযোগই বড় পায়না। সুতরাং বিড়ি সিগারেট ভয়ঙ্কর দারোয়ানের কাজ করে বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে ধূমপায়ী অতি জীর্ণ হয়ে যায়। দেহে আর কিছু থাকে না, যা থাকে তা শুধু কাশি, খিটখিটে মেজাজ আর তিরিক্ষে স্বভাব দিয়ে বাড়ির সকলের সঙ্গে ক্যার ক্যারানি"।

বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

জেনে নিন হার্ট অ্যাটাক কী? হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, করণীয় ও প্রতিরোধ। -এআরএইচ

হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack) কী? হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, করণীয়, প্রতিরোধ। 


পর্যাপ্ত অক্সিজেন -সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহের অভাবে কার্ডিয়াক পেশির ধ্বংস বা মরে যাওয়াকে হার্ট অ্যাটাক বলে। করোনারি ধমনির অন্তর্গাত্রে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল জমে ধমনির অন্তঃস্থ গহ্বর বন্ধ হয়ে গেলে হৃৎপেশিতে পুষ্টি ও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে হৃৎপেশি ধ্বংস বা মরে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হার্ট অ্যাটাকের অপর নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন (Myocardial Infraction)

হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণঃ
করোনারি ধমনিতে কোলেস্টেরল জাতীয় পদার্থ জমা হওয়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে পরিসমাপ্তি হওয়া পর্যন্ত অনেক দিন অতিবাহিত হয়। এ সময়ের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষণের মধ্যে নিম্নবর্ণিত লক্ষণগুলো বেশি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হয়।
বুকে অস্বস্তিঃ বুকের ঠিক মাঝখানে অস্বস্তি হওয়া যা কয়েক মিনিট থাকে, চলে যায় আবার ফিরে আসে। বুকে অসহ্য চাপ, মোচড়ান, আছড়ান বা ব্যথা অনুভূত হয়।

ঊর্ধ্বাঙ্গের অন্যান্য অংশে অস্বস্তিঃ এক বা উভয় বাহু, পিঠ, গলা, চোয়াল বা পাকস্থলির উপরের অংশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব।

ঘন ঘন নিঃশ্বাস -প্রশ্বাসঃ
বুকে অস্বস্তির সময় ঘন ঘন নিঃশ্বাস -প্রশ্বাস ঘটে। অনেক সময় বুকে অস্বস্তি হওয়ার আগেও এমন অবস্থা দেখা দিতাম পারে।

বমি -বমি ভাবঃ পাকস্থলিতে অস্বস্তির সাথে বমি -বমি ভাব, বমি হওয়া, হঠাৎ মাথা ঝিমঝিম করা অথবা ঠাণ্ডা ঘাম বেরিয়ে যাওয়া।

ঘুমে ব্যাঘাতঃ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটা, নিজেকে শক্তিহীন বা শ্রান্ত মনে হওয়া।
উল্লেখিত লক্ষণগুলোর দু একটি সবার মধ্যেই দেখা যায়। তার অর্থ এই নয় যে, সবাই হার্টা অ্যাটাকে আক্রান্ত। একই লক্ষণ সবার মধ্যে দেখা যায় না, শারীরিক গড়ন, বয়সভেদে লক্ষণের হেরফের হয়। তবে লক্ষণগেলো তাদের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যারা -
উচ্চ রক্ত চাপের রোগী, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল সম্পন্ন, ধূমপায়ী, ডায়াবেটিক রোগী, কম শারীরিক প্ররিশ্রমকারী, স্যাচুরেটেড চর্বি, কোলেস্টেরল ও সোডিয়াযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণকারী, অতি ওজন ও স্থূলতা সম্পন্ন, ৪৫ বছর বয়স্ক পুরুষ বা ৫৫ বছর বয়স্ক নারী ইত্যাদি।

হার্ট অ্যাটাকে করণীয়ঃ
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও উপসর্গের প্রকাশ ঘটে খুব তাড়াতাড়ি। তবে কখনওবা কয়েক ঘন্টা, কয়েকদিন বা সপ্তাহ লেগে যায়।
লক্ষণের ধরণগুলো জানা না থাকলে নিজে বা কারও সাহায্য নিয়ে দ্রুত হৃৎচিকিৎসকের কাছে পৌছাতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সাহায্য পাওয়া যাবে, হৃৎপিণ্ডের ক্ষতিও হবার তত কম। লক্ষণ -উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস ও চেকআপের ফলাফল দেখে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। হৃৎরোগীদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সহমর্মিতা অত্যন্ত জরুরি। 

প্রতিরোধঃ 
হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য -পানীয় প্রয়োজন। ঋতুকালীন টাটকা ফল ও সবজি খেতে হবে। চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। বডি মাস ইন্ডেক্স (Body Mass Index, BMI) মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। সঠিক ওজন, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম যেমন প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটা ইত্যাদি নিয়মিত করতে হবে। ধূমপায়ী হলে অবশ্যই ধূমপান ত্যাগ করতে হবে। অধূমপায়ী হলে ধূমপান না করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে। শুধু হৃৎরোগ নয়, অনেক অসুখের মূলে রয়েছে অ্যালকোহল গ্রহণ। জীবনাভ্যাসে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ রাখতে হবে। কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হেব বা বন্ধ. করতে হবে। বছরে অন্তত একবার (সম্ভব হলে দুবার) সমগ্র দেহ চেকআপের ব্যবস্থা করতে হবে। 

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

জেনে নিন হার্ট ফেলের কারণ ও এর থেকে বাঁচার উপায়। -এআরএইচ

Heart Failure
হার্ট ফেউলিউর 


হৃৎপিণ্ড যখন দেহের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রক্তের যোগান দিতে পারে না তখন এ অবস্থাকে হার্ট ফেইলিউর বলে। অনেক সময় হৃৎপিণ্ড রক্তে পরিপূর্ণ না হতে পারায়, কখনওবা হৃৎপ্রাচীরের যথেষ্ট শক্তি না থাকায় এমনটি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উভয় সমস্যাই একসঙ্গে দেখা যায়। অতএব হার্ট ফেইলিউর মানে হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে বা থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তা নয়। তবে হার্ট ফেইলিউরকে হৃৎপিণ্ডের একটি মারাত্মক অবস্থা বিবেচনা করে সুচিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। 

হার্ট ফেইলিউরের কারণঃ

করোনারি ধমনির অন্তঃস্থ গাত্রে কোলেস্টেরল জমে ধমনির গহ্বর সংকীর্ণ করে দিলে হৃৎপ্রাচীর পযার্প্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়। কালান্তরে হার্ট ফেইলিউর ঘটে। উচ্চ রক্তচাপ বেশি দিন স্থায়ী হলে ধমনির অন্তঃস্থ প্রাচীরের কোলেস্টেরল জমার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ফলে রক্ত চলাকালে বাধাগ্রস্ত হয় এবং হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। ডায়াবেটিস হলে দেহ পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন বা সঠিক ভাবে ব্যবহারও করতে পারে না। এ কারণে ধীরে ধীরে হৃৎপেশি ও হৃৎপিণ্ডের বাটিকাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে হার্ট ফেইলিউর ঘটে। হৃৎপিণ্ড জন্মগত বা সংক্রমণজনিত কারণে হার্ট ফেইলিউর ঘটতে পারে।

হার্ট ফেইলিউরের কারণঃ

  • সক্রিয়, নিষ্ক্রিয় এমনকি ঘুমের মধ্যেও শ্বাসকষ্টে ভোগা এবং ঘুমের সময় মাথার নিচে দুটি বালিশ না দিলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়।
  • সাদা বা গোলাপি রঙের রক্তমাখা মিউকাসসহ স্থায়ী কাশি বা ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস-প্রশ্বাস।
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় টিস্যুতে তরল জমে ফুলে উঠে।
  • পাকস্থলী সব সময় ভরা মনে হয় কিংবা বমি ভাব থাকে।
  • কাজ -কর্ম, চলনে অসামঞ্জস্য এব স্মৃতিহীনতা প্রকাশ পায়।
  • হৃৎস্পন্দন এত দ্রুত হয় মনে হবে যেন হৃৎপিণ্ড এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
হার্ট ফেইলিউরের প্রতিকার
  1. জীবনযাপন পদ্ধতির পরিবর্তনঃ স্বাস্থ্যসম্মত আহার হচ্ছে রোগীদের প্রধান অবলম্বন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা দেখে নিয়মিত সুষম পানাহার করা উচিত।
  2. ঔষধ গ্রহণঃ হার্ট ফেইলিউরের ধরন দেখে চিকিৎসক যে সব ঔষধ নির্বাচিত করবেন নিয়মিত তা সেবন করতে হবে এবং নিষিদ্ধ সময় পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে।
  3. অন্যান্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াঃ হার্ট ফেইলিউর যেন খারাপের দিকে মোড় না নেয় সেদিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন শারীরিক অব্যাবস্থাপনা সারিয়ে তুলতে হবে বা নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। 

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...