সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮

স্ট্রোক কী? কেন হয়? প্রতিকার ও প্রতিরোধ। -এআরএইচ

প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। 
আমাদের দেশে প্রচলিত একটি ধারণা আছে যে স্ট্রোক একটি হৃৎপিন্ডের রোগ। বাস্তবে এটি মোটেই সত্য নয়, স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ। মস্তিষ্কের রক্তবাহী নালীর দুর্ঘটনাকেই স্ট্রোক বলা যায়। এ দুর্ঘটনায় রক্তনালী বন্ধও হতে পারে, আবার ফেটেও যেতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রোক সম্পূর্ণই মস্তিষ্কের রক্তনালীর জটিলতাজনিত রোগ।
স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৪০ ভাগ মারা যায়, আর ৩০ ভাগ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তারা বেঁচে থেকেও দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। বছরে আক্রান্ত হচ্ছে ৬ কোটি এবং মারা যাচ্ছে ২ কোটি মানুষ। স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি লোক পঙ্গু হচ্ছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক যেমন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যা, একই সঙ্গে অনেক মানুষ হারাচ্ছে তাদের কর্মদক্ষতা, হচ্ছে প্রচুর অর্থ ব্যয়। সুতরাং স্ট্রোক জাতীয় ও বিশ্বজনীন সমস্যা। প্রতি ৬ জনে ১ জনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থাকে।

স্ট্রোকে আক্রান্তের হার দিন দিন বেড়েই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবেই এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের দেশে এখন ১৫ থেকে ২০ লাখ স্ট্রোকের রোগী রয়েছে। প্রতি হাজারে গড়ে ৩ থেকে ৫ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণত পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার বেশি লক্ষ্য করা গেলেও যে কোন বয়সেই তা হতে পারে। ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি ১০ বছরে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। মহিলাদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্তের হার কম। ফাস্টফুডে আসক্তদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। শিশু ও তরুণদের অনেকে খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্ট্রোক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

আরও পড়ুনঃ হার্ট ফেল কী? কেন হয়? এর লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ। 

স্ট্রোকের ধরণঃ

>ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)
>
হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)


স্ট্রোক কেন হয়? 
অনেক কারণেই স্ট্রোক হয়। যেমন-

১. অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ।

২. ধূমপান, তামাক পাতা, জর্দ্দা, মাদক সেবন।
৩. অতিরিক্ত টেনশন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, রক্তে বেশি মাত্রায় চর্বি।

৪. অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া, অতিরিক্ত মাত্রায় কোমল পানীয় গ্রহণ।

৫. কিছু কিছু ওষুধ যা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় যেমন এ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রেল প্রভৃতি ব্যবহারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৬. ঘুমের সময় নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ।

৭. যে কোন ধরনের প্রদাহ অথবা ইনফেকশন ও জন্মগতভাবে ব্রেনে কিংবা মস্তিষ্কে সরু রক্তনালী থাকা।

৮. অনেক সময় বংশানুক্রমে কিংবা পূর্বের স্ট্রোক, হার্ট এ্যাটাক ও দূরবর্তী রক্তনালী বন্ধ হওয়ার কারণেও স্ট্রোক হতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণসমূহঃ


১. শরীরের কোথাও বা একাংশ অবশ ভাব লাগা কিংবা দুর্বলবোধ করা।

২. কথা বলার সমস্যা অর্থাৎ কিছুক্ষণের জন্য কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট হওয়া ও একেবারে কথা বলতে বা বুঝতে না পারা।

৩. এক চোখ বা দুই চোখেই ক্ষণস্থায়ী ঝাপসা দেখা বা একেবারেই না দেখা।
৪. মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘোরা, দৃষ্টি ঘোলা লাগা, হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য হতবিহবল হয়ে পড়া, বমি বমি বোধ অথবা বমি করা।

৫. পা দুইটিতে দুর্বল বোধ করা।

৬. স্ট্রোকের মারাত্মক উপসর্গ হচ্ছে অজ্ঞান হওয়া, খিচুনি, তীব্র মাথা ব্যথা ও বমি।

স্ট্রোক হলে কি চিকিৎসা দিতে হবে


১. স্ট্রোক হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যদি খেতে না পারেন তবে নাকে নল দিয়ে খাবার ব্যবস্থা করা হয়। প্রস্রাব ও পায়খানা যাতে নিয়মিত হয় সে ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রয়োজনে প্রস্রাবের রাস্তায় ক্যাথেটার দিতে হবে। চোখ, মুখ ও ত্বকের যত্ন নিতে হবে। বেডসোর প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত পাশ ফেরাতে হবে।

২. উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৩. পাশাপাশি অনেক স্ট্রোক রোগীর হার্টের রোগ থাকে। এসব ক্ষেত্রে কারডিওলজিস্টের পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

৪. অন্যান্য চিকিৎসা স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী করা হয়। যেমনÑ ইশকেমিক স্ট্রোকের বেলায় এসপিরিন, ক্লোপিডগ্রিল জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হলে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে।

৫. সকল হাসপাতালেই থাকা উচিত একটি স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, যেখানে ডাক্তার, নার্স, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সমম্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্ট্রোক রোগীর চিকিৎসা দেবেন।

৬. একজন স্ট্রোক রোগীর প্রয়োজন হয় নিউরোলজিস্ট এবং নিউরোসার্জনের। অনেক স্ট্রোক রোগীর অপারেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৭. অনেক রোগীর শ্বাসকষ্ট, বেডসোর প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং রেসপিরেটরি মেডিসিন স্পেশালিস্ট, প্লাস্টিক সার্জনসহ সবার সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।
৮. রোগীর অঙ্গ সঞ্চালন করে জড়তা কাটিয়ে তুলতে রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসনের জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট প্রয়োজন হয়।

৯. রোগী কথা বলতে না পারলে প্রয়োজন স্পিচ থেরাপিস্টের।

১০. স্ট্রোক কেয়ার ইউনিট, সমম্বিত স্ট্রোক কেয়ার টিমের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসায় আসবে সুফল, রোগী ও রোগীর স্বজন হবেন চিন্তামুক্ত, রোগী লাভ করবে আরোগ্য।

কিভাবে আমরা এই ভয়াল দানবকে রুখে দাঁড়াতে পারি? যেভাবে প্রতিরোধ সম্ভব


‘স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য রোগ।’ স্ট্রোক ব্রেন বা মস্তিষ্কের কঠিন রোগ। ব্রেনের কোষগুলো একবার নষ্ট হলে পুনরায় পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয় না অথবা জন্মায় না। ‘চিকিৎসার চেয়ে এই রোগ প্রতিরোধই উত্তম।’ এই রোগ মস্তিষ্কের রক্তনালী থেকে উদ্ভূত হয়। স্ট্রোক হলে অনেক সময় রোগী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট ও জরুরী চিকিৎসা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরে যে কোন হাসপাতালে এ রোগের চিকিৎসা সম্ভব।

১. নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২. ধূমপান, মদ্যপান, মাদক দ্রব্য, তামাক পাতা ও জর্দ্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. হৃৎপি-ের রোগের চিকিৎসা, রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৪. চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ফাস্টফুড, বাদাম, সন্দেশ-রসগোল্লা, দুধ-ঘি-পোলাও-বিরিয়ানি, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া, গরু বা খাসির মাংস, নারিকেল বা নারিকেলযুক্ত খাবার ইত্যাদি কম খাওয়া উচিত।

৫. শাক-সবজি, অল্প ভাত, পাঙাশ-চিংড়ি-কাঁকড়া বাদে যে কোন মাছ, বাচ্চা মুরগি ও ডিম খেলে কোন ক্ষতি হয় না।

৬. নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বাড়তি ওজন কমাতে হবে।

স্ট্রোক অবশ্যই একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। একবার আক্রান্ত হয়ে গেলে চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। আক্রান্ত রোগী নিজে মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, পরিবারের জন্য অনেক সময় বোঝা হয়ে দাঁড়ান। তাই প্রতিরোধ করাই সর্বোত্তম।

লেখক : অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

ডিন, মেডিসিন অনুষদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
সূত্রঃ দৈনিক জনকণ্ঠ ও উইকিপিডিয়া

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮

রোজার পরিশুদ্ধতার জন্য সদকাতুল ফিতর।

রোজার পরিশুদ্ধতার জন্য সদকাতুল ফিতর।


পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন "হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমনটি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরে যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার"। (বাকারা -১৮৩) 
মাহে রমাদান আমাদের মাঝে হাজির হয় রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে। রমজানের রোজার ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন "নিশ্চিয়ই রোযা আমার (আল্লাহর) জন্য আর আমিই (আল্লাহ) এর প্রতিদান দেব। (বুখারি ও মুসলিম, মেশকাতুল মাসাবিহ - কিতাবুস সাওম)

রমজানের রোযা রাখতে গিয়ে অনেক সময় অনেক ভুলত্রুটি হয়ে যায় যার বিশুদ্ধতার জন্য আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের জন্য ফিতরার ব্যবস্থা করছেন এর মাধ্যমে যেন রোযাকে পরিশুদ্ধ করা যায়। 

সদকাতুল ফিতর বা ফিতরাকে জাকাতুল ফিতরও বলা হয় ইসলামের পরিভাষায়। 
ফিতর / ফাতুর হলো এমন খাবার যার দ্বারা রোজা ভঙ্গ করা হয়। বা এভাবে বলা যেতে পারে যে খাবার দিয়ে রোযা ভাঙা হয় তাকে ফিতর বা ফাতুর বলে। (মুযাম আল ওয়াসিত)

সদকাতুল ফিতর একটি আর্থিক ইবাদত। রমজানের রোযার ভুলত্রুটিকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আল্লাহর হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই বিধান দিয়েছেন। 

ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতরা বাধ্যতামূলক করেছেন। যার পরিমাণ হবে এক সা খেজুর বা এক সা জব। ছোট - বড়, স্বাধীন - পরাধীন সকলের জন্য এটি ওয়াজিব। (বুখারি)

যাদের উপর ফিতরা ওয়াজিবঃ
যে আযাদ মুসলমান, এমন সম্পদের মালিক যার দ্বারা তার জরুরি প্রয়োজন সম্পন্ন করে কিছু উদ্বৃত্ত থাকে। (এর মধ্যে সম্পদ বৃদ্বিপ্রাপ্ত হওয়ার শর্ত নেই) তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হয়। (কাজিখান) 
ফিতরা ঈদুল ফিতরের দিন ফজর উদয় হওয়ার পর ওয়াজিব হয়। কোন ব্যক্তি যদি ফজরের আগে মারা যায় তাহলে তার ফিতরা ওয়াজিব হবে না আবার ফজরের পর কোন শিশু জন্ম গ্রহণ করলে বা কেউ মুসলিম হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ফজের পরে গেলে বা ফজরের আগে জন্ম গ্রহণ বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। কেউ ফজরের আগে ধনী হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে আর যদি ফজরের পূর্বে গরিব হয় তাহলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। (মুহিতে সরুখি) ঈদের দিন সকালে নামাজের পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব আগে আদায় করলেও জায়েজ হবে।

ফিতরার পরিমাণঃ 
ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কে শরার দুটি মত পাওয়া যায়। ১. এক সা ৩. অর্ধ সা বা নিসফে সা
এক সা = সোয়া তিন কেজির কিছু বেশি বা ৩ কেজি ২৭১ গ্রাম।
নিসফে সা = দেড় কেজির কিছু বেশি বা ১ কেজি ৬৩৬ গ্রাম। (আওজানে শরিয়্যাহ) 
খেজুর, কিশমিশ, পনির জব দিয়ে আদায় করলে ১সা আর গম দিয়ে আদায় করলে অর্ধ সা। 

যা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হয়ঃ 
চার প্রকার জিনিস দিয়ে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ১. যব ২. গম ৩. খেজুর ৪. কিসমিস (শরহে তাহাবি) তবে এগুলো সমমূল্যে দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়েজ। (আলমগিরি)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় এই চার জিনিস দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করা হত। হযরত আবু সাঈদ খুদুরি রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা খাদ্য দ্বারা সদাকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্যও ছিল জব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির (বুখারি ও মুসলিম) মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহুর খিলাফতের সময়ে অনেকে গম দুয়ে ফিতরা আদায় করতেন। (বুখারি ও মুসলিম) 

ওপরের যে কোনো একটিকে ধরে তার মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যায়। যেহেতু ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব তাই ন্যায্য মূল্য দিয়ে আরও কিছু বেশি দিয়ে নফল আদায় করা উচিত।

যাদেরকে সদাকা দিবেঃ
১. গরিব। গরিব সেই ব্যক্তি, যার নিকট কিছু মাল আছে., কিন্তু নিসাব পরিমাণের থেকে কম বা থাকলেও তা বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা নেই বা তার প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত নেই এমন লোককে গরিব হিসেবে গন্য করা যায়। (ফতহুল কাদির) মূর্খ্য গরিবকে সদাকা দেয়ার থেকে জ্ঞানী গরিবকে সদাকা দেয় উত্তম।

২. মিসকিন। মিসকিন সেই ব্যক্তি যার কাজে খাওয়া পরার জন্য কিছুই নেই বরং লোকের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে এমন ব্যক্তি। (ফতহুল কাদির) 

৩. ইমাম কর্তৃক যে ব্যক্তি সদাকা আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ হয়েছে। এই ব্যক্তিকে আমেল বলা হয়। আমেল ব্যক্তি সদাকা পেতে পারে। (কাফি)

৪. গোলাম আযাদ করে দেয়া। যে গোলাম মুকাতিব আছে, তাকে আযাদ করতে সাহায্য করবে। (মুহিতে সরুখি) মুকাতিব ধনী হলেও জায়েজ।

৫. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ এরুপ যে তার ঋণের চেয়ে বেশি মাল নেই বা এত ঋণ যে সে পরিশোধ করতে পারে না (তাবিয়িন)

৬. মুসাফির। এমন মুসাফির যে নিজের সম্পদ থেকে দূরে অবস্থান করছে।

৭. ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করে এমন ব্যক্তি। ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয় বা এমন অনিষ্টকারী কাফেরের থেকে. রক্ষা পাবার জন্য সদাকা দেয়া যায়।

৮. আল্লাহর রাস্তায়।

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...