রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯

পাকস্থলী বা অন্ত্র নিজে হজম হয় না কেন? -এআরএইচ

পাকস্থলী বা অন্ত্র নিজে হজম হয় না কেন? 
Why the stomach or intestine itself is not being digested?

পাকস্থলী এবং অগ্নাশয়ের অসংখ্য সোনালি গ্রন্থি প্রোটিয়েজ (protease - আমিষ খাদ্য হজমের এনজাইমকে প্রোটিয়েজ বলে। যেমনঃ পেপসিন, ট্রিপসিন এক একটি প্রোটিয়েজ) এনজাইম তৈরি করে। প্রোটিয়েজ দ্বারা পাকস্থলী বা অন্ত্রের লুমেনে আমিষ পরিপাক হলেও এ সকল প্রোটিয়েজ সৃষ্টিকারী গ্রন্থিকোষগুলো প্রোটিন দ্বারা গঠিত হওয়া সত্ত্বেও কয়েকটি কারণে নিজেরা পরিপাক হয় না।
প্রথমতঃ প্রোটিয়েজ গুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ক্ষারিত হয়। যেমনঃ পাকস্থলী প্রাচীরের গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে পেপসিন নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন হিসেবে ক্ষারিত হয় এবং HCl এসিডের সংস্পর্শে না আসা পর্যন্ত সক্রিয় হয় না। একইভাবে অগ্নাশয়ের পরিপাক গ্রন্থি, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই ট্রিপসিনোজেন হিসেবে ক্ষরিত হয়ে ড্যুওডেনাম প্রাচীর এন্টারোকাইনেজ এনজাইম দ্বারা সক্রিয় হয়। ফলে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এই এনজাইমগুলো পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীরকে হজম করতে পারে না। পাকস্থলী প্রতি মিনিটে প্রায় পাঁচ লক্ষ কোষ মোচন করে এবং প্রতি তিন দিনে সম্পূর্ণভাবে নবায়িত হয়।
দ্বিতীয়তঃ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রাচীরের কিছু কোষ ও লালাগ্রন্থি মিউকাস উৎপন্ন করে। মিউসিন নামক একটি প্রোটিন মিউকাসের প্রধান উপাদান। পাকস্থলী ও অন্ত্র প্রাচীরের ভিতরের গাত্র সব সময় মিউকাসের গাঢ় আবরণ দ্বারা আবৃত থাকে। মিউকাসের খ আবরণের জন্যই আমিষ হজমকারী এনজাইমসমূহ পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীর কোষের সংস্পর্শে আসতে পারে না বলে এরা এই সকল অঙ্গের কোনো  ক্ষতিও করতে পারে না।
তৃতীয়তঃ কোষে কোন এন্টিএনজাইম থাকার সম্ভাবনা আছে যার জন্য এনজাইমগুলো পাকস্থলী বা অন্ত্র প্রাচীরে অবস্থিত সজীব কোষের উপর ক্রিয়া করতে পারে না।
চতুর্থতঃ পাকস্থলী কোষ প্রোস্ট্রাগ্লান্ডিনের উচ্চ মাত্রা ধারণ করে যা পাকস্থলী দ্বারা সৃষ্ট এসিড - নিউ্রেলাইজিং কার্বোহাইড্রেট এর সাথে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়।
কখনো কখনো গ্যাস্ট্রিক মিউকোসার এই সংরক্ষণ মূলক মিউকাস আবরণ পেপসিন এনজাইম এবং হাইড্রোক্লোরিক এসিডের কার্যকারিতায় কোথাও কোথাও নষ্ট হয়ে যায়। এর সাথে Helicobacter pylori  নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে মাএই ব্যাকটেরিয়া যে টক্সিন ক্ষরণ করে তা পাকস্র অন্তর্গাত্রে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহই হলো আলসার বা ক্ষত সৃষ্টি করে। এই ধরনের আলসার বা ক্ষতকে পেপটিক আলসার বলে। আলসার পাকস্থলীতে হলে গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং ড্যুওডেনামে হলে ড্যুওডেনাল আলসার বলা হয়।

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮

দেশের আইন কেন এতো বৈষম্যমূলক? -এআরএইচ

দেশের আইন কেন এতো বৈষম্যমূলক? -এআরএইচ

সংসদীয় গণতন্ত্র বলতে বুঝি এমন একটি আইন ব্যবস্থা যে, দেশের (নির্দিষ্ট এলাকার) মানুষ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে একজন ব্যক্তিকে সংসদে পাঠাবে। আর তিনি মহান সংসদে দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে আইন প্রণয়ন করবেন। আমাদের দেশের সাংসদ মানে আমরা বুঝি রাস্তা -ঘাট, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি। এসব কাজ যদি সাংসদদের হয় তবে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এসবের কাজ কী?

পাঠক! আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯০ সালের পর এটাই প্রথম কোন দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। তবে কতটা অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তবে আমি আশাবাদী সরকার শেষমেষ একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার ব্যাপারে সব রকম সহযোগিতা করবে।

ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। নিবন্ধিত দলগুলো তাদের মনোনিত প্রার্থী দিয়েছেন। প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগেও নেমেছেন। নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব আইনে বলা হয়েছে -কোন ব্যক্তি যদি লাভজনক পদে থাকে তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আমি এটাকে স্বাগত জানাই। তবে একটি কথা হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই আইনের সাথে কতটা সাংঘর্ষিক?

পাঠক! লক্ষ্য করুন, নির্বাচনে সংসদ বহাল রয়েছে অর্থাৎ সকল সাংসদ তারা তাদের লাভজনক পদে বহাল রয়েছেন। এখন লাভজনক পদে থেকে তারা কিভাবে নির্বাচন করছেন? পাঠক মনে এটি আমার প্রশ্ন।
যদি সমান সুযোগ -সুবিধার কথা বলি তাহলে সাংসদরা যদি তারা তাদের পদে থেকে নির্বাচন করতে পারে তবে সিটি কর্পোরেশন মেয়র, পৌর মেয়র, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া উচিত।

.
সম্মানিত পাঠক মহল! আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন গাইবান্ধা -৩ এর ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. ফজলে রাব্বী ইন্তিকাল করছেন। তার মৃত্যুতে ইসি সচিব জানিয়েছেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ আসনটি ৩০ ডিসেম্বরের পর পুনঃতফসিল করা হবে।

পাঠক লক্ষ্য করুন, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন জমা দেয়া ও বৈধ হবার পর যদি কোন প্রার্থী মারা যায় তবে সে আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকবে এবং পরে তা পুনঃতফসিল করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো ইসি কর্তৃক মনোনয়ন বৈধ হবার পর নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে হাইকোর্ট কর্তৃক যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের নির্বাচনী এলাকায় কেন ভোট গ্রহণ স্থগিত হবে না? কনে পনুঃতফসিল হবে না? পাঠক মনে এটি আমার প্রশ্ন।

পাঠক! আরও উদাহরণ দেয়া যাবে যেখানে আমার মনে হয় কেন যেন আইন বৈষম্যমূলক। আইন সংশোধন করা উচিত সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে।

(লেখাটি কাউকে উদ্দেশ্যে, কাউকে সুবিধা দিতে /নিতে লেখা হয়নি।)

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...