বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

বৈদ্যুতিক শক লাগলে যা যা করণীয়। - এআরএইচ

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক লাগলে আমাদের করণীয়।

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক বলতে শরীরের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অণুভুতিকে বুঝায় । শরীরের ভিতর দিয়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই কেবল শক লাগে । অতি অল্প পরিমাণ প্রবাহ কোন অনুভূতি সৃষ্টি না করতে পারলেও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে । ইলেকট্রিক শক লাগার জন্য সর্বনিম্ন যে বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োজন তা নির্ভর করে বিদ্যুতের ধরন এবং কম্পাঙ্কের উপর । শরীরের ভিতর দিয়ে 6০/50 হার্জ কম্পাঙ্কের AC বিদ্যুৎ প্রবাহ ১ মিলিএম্পিয়ার (RMS) হলেই একজন ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারেন, কিন্তু DC হলে কমপক্ষে ৫ মিলিএম্পিয়ার লাগে অনুভূতি সৃষ্টি করতে । বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে দেহের রোধের জন্য তাপ উৎপন্ন হয় । এই তাপ দেহের বাইরের বা ভিতরের অংশ পুড়ে ফেলতে সক্ষম । ৪ এম্পিয়ারের বেশি প্রবাহ টিস্যু পুড়ে ফেলে, হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায় এবং মৃত্যু হতে পারে ।




কারো বৈদ্যুতিক শক লাগলে বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের করণীয়গুলো কি? চলুন সংক্ষেপে তা জেনে নিই-

কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে করণীয়ঃ 
  1. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে হাত দেওয়া যাবে না।
  2. বৈদ্যুতিক সুইচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে।
  3. সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা রাবার দিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক উৎস থেকে ধাক্কা দিয়ে আলাদা করতে হবে।
  4. ধাক্কা দেওয়া এবং সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিতে হবে।
  5. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে কখনোই পানি দেওয়া যাবে না
  6. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গলা, বুক ও কোমরের কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।
  7. আহিত ব্যক্তিকে খালি গায়ে মাটিতে শুয়ে দিতে হবে যাতে করে শরীরে যতটুকু বিদ্যুৎ আছে তা মাটিতে চলে যেতে পারে। 
  8. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে মনে হলে দ্রুত তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিতে হবে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে সিপিআর (CPR)। 
  9. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্ততপক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হয় ততক্ষণ এটা করতে হবে।
  10. রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৯

বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার হুকুম। - এআরএইচ

বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার হুকুম।

আখেরি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পূর্বে যে সকল নবির উম্মাত ছিল তাদের জন্য বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা যায়েজ ছিল এবং তারা বিবস্ত্র হয়েই গোসল করতেন। কারণ তখন দ্বিন ইসলাম পরিপূর্ণ ছিল না। এর পর আল্লাহ ঘোষণা করলেন -
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا 
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম (ইসলাম) পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের ধর্ম হিসাবে মনোনীত করলাম। [ মায়েদা -৩ ]

যদি অন্য কারো দেখার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে বাথরুমে বিবস্ত্র অবস্থায় গোসল করা জায়েজ। তবে প্রয়োজন ছাড়া বাথরুমে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা উচিত নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। সুতরাং তা পরিহার করা উচিত। এক হাদিসে এসেছে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো (অর্থাৎ ঢেকে রাখো)। ’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! (তখনো কি তা ঢেকে রাখতে হবে?)। ’ তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত। ’ (তিরমিজি - ২৭৬৯)

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...