বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯

প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পানি পান করা ক্ষতিকর দিক। -এআরএইচ

প্রচন্ড গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করার ক্ষতিকর দিক। 

প্রচন্ড গরমে বা গরমে শরীরে অনেক ঘাম হয় ফলে সহজেই পানি পিপাসা লাগে সাথে ক্লান্তি তাই এসময় চাই সুপেয় পানি। আর যদি সেই পানি হয় ঠান্ডা তাহলে তো আর কথাই নেই, যেন সোনায় সোহাগা। কিন্তু আপনি কী জানেন যে আপনার এই ঠান্ডা পানি পান করার কারণে শরীরের কী কী সব মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে? আসুন জেনে নেই সমস্যা গুলো।

হার্ট এর সমস্যাঃ ঠান্ডা পানি পানের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় হার্টের। গরম থেকে এসেই ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের শিরা উপশিরা সঙ্কুচিত হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন করতে হার্টের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই বাড়তি চাপ হার্টের জন্য একেবারেই ভালো না। সাথে সাথেই কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে জটিল হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।

জ্বর হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে: আমাদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কিন্তু ঠান্ডা পানি পান করলে আমাদের রক্ত হঠাৎ করেই শীতল হয়ে যায়। ফলে শরীরে ভেতরের অংশে হঠাৎ করেই অনাহুত অস্বস্তি দেখা দেয়। এধরনের অস্বস্তি জ্বরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়।

শরীরে পর্যাপ্ত পানির চাহিদা পূরণ হয় না: ঠাণ্ডা পানিতে ত্ষ্ণা মেটে চট করে, তৃপ্তি চলে আসে তাড়াতাড়ি। ফলে শরীর মনে করে তার আর পানি পানের প্রয়োজন নেই।ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটে না। এ ঘাটতি থেকে পানিশূন্যতা তৈরি হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

টনসিলের সমস্যা হতে পারেঃ ঠান্ডা পানিতে সহজে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা থাকে ফলে টনসিল ফুলে গিয়ে সমস্যা হতে পারে।

খনিজের অনুপস্থিতিঃ সাধারণ পানি স্বাভাবিক অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদানে পূর্ণ থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। কিন্তু পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে এসব খনিজ উপাদানের কার্যকারিতা কমে যায়। তখন শরীরের জন্য এরা আর কোনো কাজ করতে পারে না। ফলে পানি থেকে শরীরের যে খনিজের চাহিদা পূরণ হয় সেটা অপূর্ণই থেকে যায়।

ঠান্ডা পানিতে হজমের সমস্যা হয়ঃ ঠান্ডা পানি পান করার ফলে পাকস্থলী খাবার হজমের চাইতে ঠান্ডা পানিকে শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পাকস্থলীর যে মূল দায়িত্ব সেই খাবার হজমের প্রক্রিয়ায় ছেদ পড়ে, হজমে সমস্যা দেখা দেয়।

শরীরের শক্তি ক্ষয় করেঃ আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রায় ৯৮.৬  ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাই ঠান্ডা পানি যখন পাকস্থলীতে জমা হয় তখন পাকস্থলী তা শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসে।ফলে শরীরের অহেতুক শক্তি খরচ হয়।

ব্যায়ামের পরে ঠান্ডা পানি ক্ষতিকরঃ ব্যায়ামের পরে কক্ষতাপমাত্রা বা তার চেয়ে গরম পানি খাওয়া ভাল। কারণ ঠান্ডা পানি খেলে তা শরীরে দ্রুত শোষিত হয়। ফলে শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হয় না।

দাঁতের ক্ষতি হয়: ঠান্ডা পানি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে মারাত্মক ভাবে।গরম থেকে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসা মাত্রই দাঁতের বহিরাবরণ সংকুচিত হয়। ফলে এনামেলে ফাটল ধরে। এছাড়া মাড়ি ক্ষয়ের অন্যতম একটি কারণও ঠান্ডা পানি।

গর্ভপাতের সম্ভাবনাঃ গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঠান্ডা পানি পান করার ফলে জরায়ুর সঙ্কোচন হয়। গর্ভাবস্থায় এধরনের সঙ্কোচন গর্ভপাতের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

বুধবার, ২২ মে, ২০১৯

বৈদ্যুতিক শক লাগলে যা যা করণীয়। - এআরএইচ

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক লাগলে আমাদের করণীয়।

বৈদ্যুতিক শক বা ইলেকট্রিক শক বলতে শরীরের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট অণুভুতিকে বুঝায় । শরীরের ভিতর দিয়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলেই কেবল শক লাগে । অতি অল্প পরিমাণ প্রবাহ কোন অনুভূতি সৃষ্টি না করতে পারলেও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহ শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে । ইলেকট্রিক শক লাগার জন্য সর্বনিম্ন যে বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রয়োজন তা নির্ভর করে বিদ্যুতের ধরন এবং কম্পাঙ্কের উপর । শরীরের ভিতর দিয়ে 6০/50 হার্জ কম্পাঙ্কের AC বিদ্যুৎ প্রবাহ ১ মিলিএম্পিয়ার (RMS) হলেই একজন ব্যক্তি তা অনুভব করতে পারেন, কিন্তু DC হলে কমপক্ষে ৫ মিলিএম্পিয়ার লাগে অনুভূতি সৃষ্টি করতে । বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে দেহের রোধের জন্য তাপ উৎপন্ন হয় । এই তাপ দেহের বাইরের বা ভিতরের অংশ পুড়ে ফেলতে সক্ষম । ৪ এম্পিয়ারের বেশি প্রবাহ টিস্যু পুড়ে ফেলে, হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যায় এবং মৃত্যু হতে পারে ।




কারো বৈদ্যুতিক শক লাগলে বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের করণীয়গুলো কি? চলুন সংক্ষেপে তা জেনে নিই-

কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে করণীয়ঃ 
  1. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে হাত দেওয়া যাবে না।
  2. বৈদ্যুতিক সুইচ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিতে হবে।
  3. সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে শুকনো খবরের কাগজ, উলের কাপড়, শুকনো কাঠের টুকরা অথবা রাবার দিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক উৎস থেকে ধাক্কা দিয়ে আলাদা করতে হবে।
  4. ধাক্কা দেওয়া এবং সুইচ বন্ধ করা সম্ভব না হলে দ্রুত বৈদ্যুতিক অফিসে খবর দিতে হবে।
  5. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে কখনোই পানি দেওয়া যাবে না
  6. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির গলা, বুক ও কোমরের কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।
  7. আহিত ব্যক্তিকে খালি গায়ে মাটিতে শুয়ে দিতে হবে যাতে করে শরীরে যতটুকু বিদ্যুৎ আছে তা মাটিতে চলে যেতে পারে। 
  8. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে মনে হলে দ্রুত তার বুকের ওপর জোরে জোরে চাপ দিতে হবে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে সিপিআর (CPR)। 
  9. বিদ্যুতস্পৃষ্ট ব্যক্তির শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্ততপক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হয় ততক্ষণ এটা করতে হবে।
  10. রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

আলেমের মর্যাদা নিয়ে হাদিস - এআরএইচ

১. হাদীস: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ ...